
ওয়াকফ বোর্ড যে ক্রমশ তাদের সম্পত্তির দাবির পরিধি বাড়াচ্ছে, সেই বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ। লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, ওয়াকফ কলকাতা শহরের ঐতিহাসিক ফোর্ট উইলিয়ামকেও নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করেছে।
ওয়াকফের এই দাবিকে তীব্র কটাক্ষ করে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “এরপর বলবেন পুরো হিন্দুস্তান আমাদের ওয়াকফ। এখানে তো আমাদের সম্রাট ছিলেন। প্রয়াগরাজ, ভোপাল, মুম্বই সব জায়গাকে ওয়াকফ বলে দাবি করছেন। এভাবে চলতে পারে না। তাই বদলের প্রয়োজন আছে।”
ওয়াকফ সম্পত্তি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের ডাকে সাড়া দিচ্ছি সংবিধান দিয়েই। সংবিধানের ১৫ ধারায় এর বিধান রয়েছে। ২৫ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। আমার সাথে এর বিভাগ দু’টিও পড়ুন। যদি ওয়াকফ জমি নষ্ট হয়, লুট করা হয় বা দখল করা হয়, তাহলে সংবিধানের ২৫ ধারা আইন তৈরি করার অধিকার দেয়। এই বিল কোনওভাবেই অসাংবিধানিক নয়।”
বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিলের সমর্থনে জোরালো সওয়াল করেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি বিরোধীদের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “একদিকে বলছে সংশোধন দরকার, আবার বলছে দরকার নেই—দুই বিপরীত মত কীভাবে একসঙ্গে সম্ভব?” সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই ধারা স্পষ্ট বলছে যে নারীদের সঙ্গে বৈষম্য করা যাবে না এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির উন্নয়নে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। এই বিলের মাধ্যমে যদি পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের ওয়াকফ ব্যবস্থাপনায় সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে আপত্তির কারণ কী?”
রবিশঙ্কর প্রসাদ আরও জোর দিয়ে বলেন, “সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি ওয়াকফের জমি লুটপাট হয় বা দখল হয়ে যায়, তবে আইন আনার অধিকার সরকারের রয়েছে। তাই এই বিল সংবিধান বিরোধী নয়।”
পাশাপাশি, ওয়াকফ বিল নিয়ে বিরোধীদের যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন এই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, “এটি ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় নয়। আমরা ওয়াকফ সম্পত্তি লুট হতে দেব না। ওয়াকফ বিল কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। ৮ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে এবং এর কত জমি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়? ভোটের রাজনীতিতে এর বিরোধিতা করতে বাধ্য হচ্ছে কংগ্রেস। ভোটের দর কষাকষি আর চলবে না। মুসলমানদের আদর্শ তারা নয় যারা ভোটের দর কষাকষি করে, তারা হলেন সানিয়া মির্জা এবং মহম্মদ শামি।”
রবিশঙ্কর প্রসাদের এই মন্তব্য লোকসভায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ওয়াকফ সম্পত্তির অধিকার ও পরিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।