তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে ‘পরজীবী’ আখ্যা চীনের, শুরু সামরিক মহড়া, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা!

তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। দ্বীপ ভূখণ্ডটিকে ঘিরে চীনের সেনা, নৌবাহিনী এবং রকেট বাহিনীর যৌথ এই মহড়া শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, চীনা সামরিক বাহিনী তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-কে “পরজীবী” বলেও অভিহিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট লাইকে দেওয়া এই ধরনের আখ্যা “শান্তির পক্ষে সহায়ক নয়” বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইওয়ান। চীনা মহড়ার জবাবে তাইওয়ানও সামরিক বিমান এবং জাহাজ পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার চীনের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা তাইওয়ানের চারপাশে যৌথ সেনা, নৌবাহিনী এবং রকেট বাহিনীর সমন্বয়ে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মহড়া “তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কীকরণ এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে”।
গত মাসে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বেইজিংকে “বিদেশি শত্রু শক্তি” বলে উল্লেখ করার পরেই গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপটির চারপাশে সামরিক মহড়া শুরু করল চীনা সামরিক বাহিনী। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে তার নিজস্ব অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করে এবং দ্বীপটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিকল্পও খোলা রেখেছে।
চীন তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-কে “বিচ্ছিন্নতাবাদী” হিসেবে গণ্য করে। চীনের সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের মহড়ার ঘোষণার একটি ভিডিওতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে কার্টুনের মাধ্যমে একটি পোকা হিসেবে দেখানো হয়েছে, যাকে একজোড়া চপস্টিক দিয়ে ধরে জ্বলন্ত তাইওয়ানের উপরে রাখা হয়েছে।
ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড তাদের অফিসিয়াল উইচ্যাট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, এই মহড়ায় “সমুদ্র এবং আকাশে যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল, তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণ ও দখল, সামুদ্রিক এবং স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রুটে অবরোধ নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো বিষয়গুলির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে”।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনের শানডং বিমানবাহী রণতরী গ্রুপ সোমবার দ্বীপের প্রতিক্রিয়াশীল এলাকায় প্রবেশ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ান সামরিক বিমান এবং জাহাজ পাঠিয়েছে এবং স্থল-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও সক্রিয় করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, “চীনা কমিউনিস্ট পার্টি তাইওয়ান এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার সামরিক তৎপরতা ক্রমশ বৃদ্ধি করে চলেছে… এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ হয়ে উঠেছে।”
উল্লেখ্য, তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মূল ভূখণ্ডের সাথে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও তিনি উড়িয়ে দেননি।
অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজেকে চীনের একটি প্রদেশ নয়, বরং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে। চীনা প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র তাইওয়ানের জনগণের হাতেই ন্যস্ত। তবে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা বেইজিং অব্যাহত রেখেছে এবং তাইওয়ান উপত্যাকার আশেপাশে সামরিক কর্মকাণ্ড ক্রমশ জোরদার করেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর তাইওয়ান মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে তাইওয়ান নিজস্ব নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও বেইজিং এটিকে এখনও একটি বিদ্রোহী প্রদেশ হিসেবেই দেখে থাকে।